যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘‘আতঙ্কিত দেশবাসীকে শান্তি দিতে সংলাপ এখন সময়ের দাবি’’।
‘‘দেশের প্রচলিত রাজনীতি যদি সময়ের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে জনগণ বিকল্পের সন্ধান করবে। রাজনীতি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়’’।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেনী সদর অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প ছয় এর বিটুমিনাস উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী এসময় আরো বলেন, ‘‘ওই মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মহাসড়কের ২৪৪টি কালভার্টের মধ্যে ২২২টির ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা এগুলো উদ্বোধন করছি না। প্রকল্পের আওতাধীন ১৩টি মসজিদ, ছয়টি কবরস্থান, দু’টি মন্দির বিকল্প স্থানে স্থাপন করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকার তিন কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের নগদ ক্ষতিপূরণ দেবেন’’।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ফেনী জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির খন্দকার, পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান বি কম এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন হাজারী।
দেশে রাষ্ট্র ক্ষমতায় মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বে বলে ফেনীতে শানে রেসালাত সম্মেলনে হুমকি দিয়েছেন হেফাজত ইসলামের নেতারা।
তারা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন, আর আপনি শাহবাগ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন।”
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে জেলা হেফাজত কমিটি শহরের মহিপাল ছাড়িপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশের অয়োজন করে।
জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী, মাওলানা ফখরুল ইসলাম।
জেলা নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মুফতী রহিম উল্লাহ, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, মাওলানা সাইফুদ্দিন কাসেমী ও ওমর ফারুক প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে তারা বলেন, “আমাদের ১৩ দফা দাবি মেনে নিতে হবে। না মানলে আগামী ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির মাধমে এর জবাব দেওয়া হবে।”
কথিত নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি দাবি করে বলেন, “ঢাকা অবরোধে প্রমাণ হবে বাংলাদেশে ইসলাম থাকবে কি থাকবেনা।”
হেফাজত নেতারা নৌকা থেকে হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানান। এছাড়া মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবিরের বিচার জনরোষের মাধমে হবে বলেও জানান হেফাজতের নেতারা।
সম্মেলন শুরুর আগে দুপুর ২টার দিকে হেফাজত কর্মীরা শত শত লাঠি নিয়ে মিছিল করে সরকার বিরোধী ও শাহবাগের গণ-জাগরণ মঞ্চের ব্লগারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ফেনীতে পানির টেংকিতে ডুবে মোজাম্মেল হক রাসেল(২৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের পুরনো পুলিশ কোয়ার্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোজাম্মেল হক রাসেল ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের ডোমরা গ্রামের আবুল হেসেনের ছেলে। ফেনী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান,পুলিশ কোয়ার্টার এলাকার জাহান ভিলায় পানির টেংকি পরিস্কার করতে গিয়ে রাসেল টেংকির পানিতে ডুবে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে টেংকি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা শফিউল্লা হত্যা মামলায় ৮ যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ফেনীর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এছাড়া এ মামলার তিন আমামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে দায়রা জজ আদালতের বিচারক হারুনুর রশিদ এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সেলিম (২৫), বাচ্চু মিয়া (২২), ফারুক (২১), মোশারফ হোসেন রুবেল (২১), আনোয়ার হোসেন সুমন (১৮), নাছির উদ্দিন (২২), জামসেদ আলম কিরন (২৩), ইসমাইল (২৪)। অপর দিকে মামলায় খালাস প্রাপ্তরা হলেন, জামাল উদ্দিন (৪৮), মহিন উদ্দিন (১৮), জসিম উদ্দিন (২৮)। যাবজ্জীবন প্রাপ্তদের মধ্যে ৪ জনকে জেলহাজতে থাকলেও বাকি অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালে ২ ফেব্রুয়ারি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহাম্মদপুর গ্রামের মানুমিয়ার বাজার মাদরাসার অফিস কক্ষে সস্ত্রাসীরা ওই উপজেলার চর ডুব্বা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শফিউল্লাহকে (৬৫) গুলি করে হত্যা করে। এ ব্যাপারে শফিউল্লার স্ত্রী বিবি খতিজা ওই দিনই ১১ জনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) নুরুর রহমান তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন (জিআর ১৫/০৪ দায়রা মামলা নং-৭৮/০৫)। আদালতে ২৮ জন স্বাক্ষির মধ্যে ১৪ জন স্বাক্ষ্য প্রদান করে। আদালত ৩ জনকে মামলা থেকে খালাস ও অন্য ৮ জনকে যাবজ্জীব কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসেরু কারাদণ্ড দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট দ্বিজেন্দ্র কুমার কংশ বনিক।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর খাইয়ারা এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫ যাত্রী। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কসকান্দি এলাকার মকবুল হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৫) এবং তার ছেলে এয়াছিন (১৮)। তবে আহতদের নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভোগদাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ জানান, সকালে দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রামগামী প্রান্তিক পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই দু’জন মারা যায়। আহতদের উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হবে বলে জানান এসআই।
ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অসিম কুমার সাহা জানান, আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ।